নারকেল ফুলের মালা (সূচনা পর্ব)
নারকেল ফুলের মালা (সূচনা পর্ব)
✍️ কলমে : সুমি আক্তার
বিয়ের বয়স মাত্র ছয় মাস পেরিয়েছে। অথচ তিন্নির মনে এখনই ভয়, সংশয় আর অশান্তির কুয়াশা জমে উঠছে।
কারণ?
তার স্বামী হোসেন ইদানীং নিজের স্ত্রীকে ছেড়ে পাশের ঘরে মামাতো ভাই সুমনের সাথে ঘুমায়। তিন্নি যখন তাকে নিজের কাছে ঘুমাতে অনুরোধ করে, তখন হোসেন রেগে গিয়ে কুৎসিত কথা বলে ওঠে। জিজ্ঞেস করলে কিছুই জানায় না, উল্টে চেপে যায়। এমনকি শেষবার তাকে গায়ে হাত তুলতেও গিয়েছিল।
এই অবস্থায় তিন্নির বুকের ভেতর ভয় আরও বেড়ে উঠছে।
---
সুমনের আগমন
সুমন আগে কখনো হোসেনের বাড়িতে থাকত না। মাত্র দুই সপ্তাহ হলো হোসেন নিজেই গিয়ে তাকে নিয়ে এসেছে। মামিকে বলে এসেছে—
“সুমন এখন থেকে আমাদের বাড়িতেই থাকবে। এখানে ভালো স্কুলে পড়াতে পারব।”
সুমনের গ্রামের স্কুলের অবস্থা খুব খারাপ। টিনের চাল ভেঙে ভেঙে পড়ছে, হাঁটতে হাঁটতে স্কুলে পৌঁছাতে ঘাম ঝরে যায়। সেই কারণেই নাকি তাকে শহরে এনে পড়ানো হচ্ছে।
কিন্তু সুমন আসার পর থেকেই হোসেনের আচরণ বদলে গেছে।
---
তিন্নির সংশয়
সুমন কোন বাচ্চা ছেলে নয়। এবার ক্লাস ফাইভে উঠেছে। এর আগেও সে মামাবাড়িতে থেকেছে, তখন একাই ঘুমাতো। কিন্তু এবার যেন সবকিছু আলাদা।
সবচেয়ে অস্বস্তিকর বিষয় হলো রাতের বেলা অদ্ভুত কিছু আওয়াজ। তিন্নি কাউকে বুঝাতে পারছে না। বারবার তার মনে হচ্ছে— কোথাও যেন কিছু গড়বড় হচ্ছে।
---
শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ
তিন্নির শাশুড়ি সরিফা বেগম দিনভর গরম পানি বসিয়ে রাখেন, কিন্তু কেন তা তিনি ঠিক বলেন না।
শ্বশুর আকরাম সাহেব শান্ত প্রকৃতির মানুষ, তবে তিনি-ও যেন বিষয়গুলো এড়িয়ে যান।
তিন্নি নিজেকে একা, অসহায় মনে করে। কারও সাথে মনের কথা খুলে বলার সাহস পাচ্ছে না।
---
তিন্নি ও হোসেনের পরিচয়
বিয়ের আগে হোসেন তার কলেজের সিনিয়র এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। ভালো পড়াশোনা, টিউশনি আর সিট বিক্রির ব্যবসা মিলিয়ে হোসেনের মাসিক আয় বেশ ভালো।
তিন্নির বাবা-মাও হোসেনের গুণে মুগ্ধ হয়ে দ্রুত বিয়েতে রাজি হয়ে যান।
বিয়ের পর প্রথম কয়েক মাস সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু সুমনের আগমনের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে ফাটল ধরেছে।
---
ভয়াবহ মন্তব্য
একদিন তিন্নি নিজের মনের কষ্ট একটি বেনামী ফেসবুক গ্রুপে লিখে শেয়ার করল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই অসংখ্য মন্তব্য আসতে লাগল।
বেশিরভাগ মানুষ একটাই কথা লিখল—
“শালা কী সমকামী নাকি? বউ রেখে মামাতো ভাইয়ের সাথে শোয় কে?”
এই মন্তব্যগুলো পড়ে তিন্নি শিউরে উঠল। বুকের ভেতর কাঁপুনি শুরু হলো। মনে পড়ল কুরআনের সেই ভয়ংকর শাস্তির কথা, যেখানে লূতের জাতি এমন অপরাধের কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
---
রাতের সেই মুহূর্ত
সেদিন রাতে আবারও হোসেন তার ঘরে ফিরল না। বরং সুমনের ঘরে গেল।
তিন্নি একসময় অদ্ভুত সব আওয়াজ শুনল। সুমনের চিৎকার কানে ভেসে এলো।
অবাক করার মতো বিষয় হলো— বাড়ির অন্য কেউ যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছে না।
তিন্নি আর সহ্য করতে পারল না। দরজা খুলে বের হলো। পা টিপে টিপে সুমনের ঘরের সামনে দাঁড়াল। ঘরের বাতি বন্ধ, কিন্তু ভেতর থেকে আসছে অদ্ভুত গন্ধ।
হঠাৎ তার মাথা ঘুরে গেল। চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে গেল তিন্নি।
---
📌 চলবে...
---
👉 কেমন লাগল সূচনা পর্ব?
গল্পের পরবর্তী অংশে আরও অন্ধকার রহস্য উন্মোচন হবে।

