অপ্রিয়_সেই_তুমি লেখিকা : সুমি আক্তার পর্ব২৪

অপ্রিয়_সেই_তুমি
✍️ লেখিকা : সুমি আক্তার
পর্ব ২৪
মায়া আর তূর্য নিজেদের লাগেজ হাতে নিয়ে ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়াল। বডিগার্ডরা তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে তাদের হাতের লাগেজগুলো নিয়ে গাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য বাইরে চলে গেল।
ড্রয়িংরুমে তখন এক নীরব আবহ তৈরি হয়েছে। বিদায়ের মুহূর্ত সবসময়ই ভারী হয়—এখানেও তার ব্যতিক্রম হলো না। বাবা-মায়ের থেকে বিদায় নিতে নিতে মায়ার চোখ ভিজে উঠছিল। তূর্যও নীরবে পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
ঠিক তখনই আতিয়া বেগম হঠাৎ তূর্যের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকালেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল ভরসা, আবার একরাশ উদ্বেগও—
– ভরসা রেখেই আমি আমার এই বাবা-মা শূন্য মেয়েটাকে তোর হাতে তুলে দিলাম। ও যেন আর কোনোদিন একা না হয়।
মুহূর্তের আবেগে চারপাশটা আরও নিস্তব্ধ হয়ে গেল। তূর্যের চোখেমুখেও এক ঝলক দায়িত্ববোধের ছাপ ফুটে উঠল।
আশা করি তুই আমার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবি,
দয়া করে ওকে একটু দেখে রাখবে। (আতিয়া বেগম)
-মা তুমি এভাবে বলছ কেন?
আমি কি ওকে দেখে রাখি না? (তূর্য)
-তুই যদি ওকে ঠিকভাবে দেখে রাখতি,
তাহলে খান বাড়ি আজ দ্বিগুণ আনন্দে সেজে উঠতো। তন্নীর মতো মায়াও ওর সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনতো। (আতিয়া বেগম)
হঠাৎ আতিয়া বেগমের মুখে এমন কথা শুনে তূর্য এবং মায়া দুজনেই একে অপরের দিকে তাকায়। তারা বুঝতে পারছে না যে আতিয়া বেগম এই ঘটনার কথা কিভাবে জানলো।
তখনই আতিয়া বেগম আবার বলতে শুরু করলেন :-
-অনেক আগেই তন্বী আমাকে সবকিছু বলেছিল।(আতিয়া বেগম)
তূর্য করুন চোখে তখন তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে :-
-বিশ্বাস করো আম্মু, আমি জানতাম না যে মায়া প্রেগন্যান্ট। আর কিচেন থেকে আসার সময় মায়া হঠাৎ পড়ে গিয়েছিল, মায়ার প্রেগনেন্সির কথা জানলেও হয়তো আমি কিছুই করতে পারতাম না।
ওটা হয়তো আমাদের ভাগ্যে ছিল। (তূর্য)
তূর্যর কথা শুনে আতিয়া বেগম এই বিষয়ে আর কথা বাড়ালেন না।
সে তুর্য এবং মায়াকে জড়িয়ে ধরে বলল :-
-আল্লাহ তোদের উপর থেকে সকল মুসিবত দূর করুক। আল্লাহ তোদের সুখে রাখুক। (আতিয়া বেগম)
তারপর তুর্য এবং মায়া বাড়ির সবার থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হয় এয়ারপোর্ট উদ্দেশ্যে।
তারপর তারা উড়াল দেয় লন্ডনের উদ্দেশ্যে।
তূর্য এবং মায়া লন্ডনে ফেরার পরে বেশ কয়েকটা দিন কেটে গেছে।
মায়া এখন প্রতিদিনই ভার্সিটি শেষ করে তূর্যর অফিসে চলে যায়। তারপর সারাদিন তূর্যর সঙ্গে অফিসের বিভিন্ন কাজ করে রাতে দুজন একসাথে বাড়ি ফেরে।
যেহেতু ইরাও এখন লন্ডনে নেই, তাই মায়া নিজেকে বড্ড একা অনুভব করে।
সারাদিন মায়া বাসায় একা একা মন খারাপ করে বসে থাকে।
বাংলাদেশ থেকে ফেরার কিছুদিন পরে তূর্য নিজেই মায়াকে বলেছিলো তূর্যর অফিসে জয়েন করতে।
মায়া ও তূর্যর কথা শুনে খুশি মনে তূর্যের সঙ্গে অফিসের কাজ করতে শুরু করে।
এভাবেই মায়ার পড়াশোনা, অফিস এবং সংসার সব মিলিয়ে খুব সুন্দর ভাবেই কেটে গেল আরো একটা বছর।
_______________
গত একটা বছরে ইরা আর লন্ডনে ফেরেনি।
অগ্নি সঙ্গে ইরার সংসার টা খুব ভালোই যাচ্ছে।
অগ্নির ভালোবাসা এখন ইরাও উপলব্ধি করতে পারে, হয়তো ইরাও মনে মনে অগ্নিকে ভালোবাসে।
তবে এই এক বছরের সংসার জীবনে ইরা কখনো সেই ভালোবাসার কথা মুখে স্বীকার করেনি।
গত কয়েকদিন যাবত ইরা খুবই অসুস্থতা অনুভব করছে। সে কোন কিছুর স্মেল নিতে পারছে না, সাথে মাথা ঘোরা এবং বমি বমি ভাবতো লেগে আছে।
কিন্তু আজ সকাল থেকে শরীর খারাপের মাত্রাটা একটু বেশি বেড়ে গেছে।
তবুও ইরা কাউকে কিছু বলল না, কারণ কিছুদিন আগে বিপক্ষ দলের লোকজনেরা অগ্নির ছেলেপেলের ওপর হামলা করেছিল, সেই বিষয়টা নিয়ে আজ বিপক্ষদলের লোকজনদের সাথে অগ্নি'র গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং আছে।
আর ইরা জানে যে,
অ*গ্নি যদি একবার বুঝতে পারে ইরা অসুস্থ, তাহলে কোনো ভাবেই সে ইরাকে রেখে বাড়ি থেকে বের হবে না।
তাই ইরা কোনভাবেই অগ্নিকে তার অসুস্থতার কথা বুঝতে না দিয়ে, খুব সুন্দর করে হাসিখুশি ভাবে অগ্নিকে বিদায় দিল পার্টি অফিসে যাওয়ার জন্য।
অগ্নি চলে যাওয়ার ঘন্টাখানেক পরে ইরা শারমিন শেখের কাছে গিয়ে বলল :-
-মামি, আমি একটু বাইরে যাবো। (ইরা)
শারমিন শেখ স্বাভাবিকভাবেই ইরাকে জিজ্ঞেস করল:-
-কোথায় যাবে?
শপিংয়ে?
অগ্নি সঙ্গে গেলেই পারতে।
বিপক্ষ দলের লোকেরা যেভাবে আমাদের ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে, এই মুহূর্তে আমাদের কারোরই একা বাইরে বের হওয়া ঠিক হবে না। (শারমিন শেখ)
ইরা তখন আমতা আমতা করে বলল :-
-আসলে কিছুদিন যাবত আমার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, তাই আমি ডক্টর দেখাতে যেতে চাইছিলাম। (ইরা)
ইরার অসুস্থতার কথা শুনে শারমিন শেখ উতলা হয়ে জিজ্ঞেস করে :-
-কিরে মা, তোর কি হয়েছে?
তুই গত কয়েকদিন যাবত অসুস্থ অথচ তুই আমাকে সেটা আজ বলছিস? (শারমিন শেখ)
ইরা তখন শারমিন শেখের পাশে বসে আস্তে আস্তে বলতে শুরু করলো :-
-আসলে গত কয়েকদিন যাবত আমি নিজের ভেতরে দুর্বলতা অনুভব করছি।
কেমন যেন একটু পড়ে পড়ে মাথাটা ঘুরিয়ে ওঠে।
যেকোনো কিছু খেতে নিলেই কেমন যেন একটা ব্যাড স্মেল আসে। (ইরা)
শারমিন শেখ কিছু একটা ভেবে অভিজ্ঞ স্বরে ইরাকে জিজ্ঞেস করল :-
-তোর লাস্ট পিরিয়ড হয়েছিলো কবে?
(শারমিন শেখ)
-প্রায় আড়াই মাস আগে। (ইরা)
ইরার কথা শুনে শারমিন শেখের চোখে মুখে আনন্দের ঝলক দেখা গেল।
ইরা তখন বলল :-
-মামি, আমি জানি তুমি কি ভাবছো।
সত্যি বলতে আমিও একই কথা ভাবছি।
তবে আমি শিওর না হয়ে কাউকে কিছু বলতে চাচ্ছি না। (ইরা)
শারমিন শেখও ইরার কথায় সম্মতি জানিয়ে বলল :-
-হ্যাঁ ঠিকই বলেছিস,
আমিও চাই না গতবারের মতো লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে।
তার চেয়ে বরং চেকআপ করে, রিপোর্ট নিয়ে এসে, শিওর হয়ে তারপর সবাইকে জানাবো।
(শারমিন শেখ)
-আমিও সেটাই ভাবছি। (ইরা)
-অগ্নি কি এ বিষয়ে কিছু জানে? (শারমিন শেখ)
ইরা মাথা নিচু করে বলল :-
-না।
এই বিষয়টা নিয়ে আমি নিজেও এখনো শিওর না, তাই ওনাকে কিছু জানাইনি। (ইরা)
-আচ্ছা ঠিক আছে চল আমিও তোর সঙ্গে হসপিটালে যাবো। (শারমিন শেখ)
-OK মামি চলো। (ইরা)
________________
এমপির বউ বলে কথা, চেকআপ-এর অল্প কিছুক্ষণ সময়ের মধ্যে ইরার সব রিপোর্ট চলে আসলো। রিপোর্ট দেখে ডক্টর শারমিন শেখ কে বলল :-
-congratulation আপনি দাদি হতে চলেছেন।
এবং ডাবল congratulation আপনার ছেলের বউয়ের গর্ভে দুইটি ভ্রুণ রয়েছে। (ডক্টর)
ডক্টরের বলা কথাগুলো শুনে শারমিন শেখ আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়।
অভ্র এবং শুভ্র পরে আবারো শেখ ভিলাতে জমজ বাচ্চা আসতে চলেছে। কথাগুলো ভাবতেই শারমিন শেখের বুকের ভিতরে সুখময় অনুভূতি হানা দিচ্ছে।
শারমিন শেখ খুশি হয়ে ডক্টরের সহকারীর কাছে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বলল :-
-আমার কাছে ক্যাশ আপাতত এটাই আছে।
এই টাকা দিয়ে মিষ্টি এনে হসপিটালের সবাইকে মিষ্টিমুখ করাবেন। আর বলবেন এমপি সাফওয়ান শেখ অগ্নি বাবা হতে চলেছে। (শারমিন শেখ)
ডক্টরের সেই সহকারী ও খুশি মনে টাকাটা নিয়ে মিষ্টি আনতে চলে গেল।
ইরার কেমন যেন লজ্জা লজ্জা লাগছে,
ইরা মনে মনে ভাবছে,
সে প্রেগন্যান্ট এটা শোনার পরে সবাই তাকে দেখলে কি ভাববে?
সবাই তো বুঝে যাবে যে ইরার অগ্নি ওইসব করেছে।
পরক্ষণে আবার নিজেই নিজের মনকে বলছে:-
বিয়ের পর সব মেয়েরাই তো প্রেগন্যান্ট হয়,
এটা নিয়ে কেউ কিছু ভাববে কেনো?
ডক্টরের চেম্বার থেকে বেরিয়েই শারমিন শেখ অভ্রকে ফোন করলো, দুইবার রিং হতে ওপাশ থেকে অভ্র ফোনটি রিসিভ করল।
অভ্র ফোন রিসিভ করতে শারমিন শেখ খুশিতে গদগদ হয়ে অভ্রকে বলল :-
-অভ্র, আমি তোকে এখন এমন একটা খুশির সংবাদ বলবো যা শোনার পর তুই খুশিতে পা*গল হয়ে যাবি। (শারমিন শেখ)
-আম্মু আমি তো এতদিন জানতাম যে আমি অলরেডি পা*গল। (অভ্র)
-তুই তোর বা*দরামো বন্ধ করবি? (শারমিন শেখ)
-OK, OK. বলো।
কি খুশির সংবাদ দিবে? (অভ্র)
-সবাইকে মিষ্টি খাওয়ানোর ব্যবস্থা কর, বাড়িতে দুই দুই জন নতুন সদস্য আছে। (শারমিন শেখ)
শারমিন শেখের এমন কথা শুনে অভ্র খুশিতে নাচতে নাচতে বলল :-
-আম্মু তোমার কথা শুনে সত্যি আমি খুশিতে পাগল হয়ে যাচ্ছি, আমি ভাবতেও পারিনি যে তুমি আমাদেরকে না জানিয়ে আমার এবং শুভ্রর বিয়ে ঠিক করে ফেলবে। (অভ্র)
ছেলের কথা শুনে শারমিন শেখ অবাক হয়ে গেল।
সে বলল কি, আর ছেলে বুঝলো কি।
তাই সে অভ্রকে বোঝানোর জন্য আবারও বলল :-
-আমি তোদেরকে বিয়ে করিয়ে বউ আনার কথা বলিনি। আমি বলতে চেয়েছি বাড়িতে দুটো নতুন ক্ষুদে সদস্য আসছে। (শারমিন শেখ)
এদিকে ইরা লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে।
তখনই অভ্র ফোনের ওপাশ থেকে বলে উঠলো :-
-আম্মু এই বয়সে তোমাদের এটা করা ঠিক হয়নি,
বাবার বয়স হয়েছে বলে সে রাজনীতি থেকে রিটার্ন নিল, আর এই বয়সে এসে কিনা তোমরা আবার নতুন করে ফ্যামিলি প্লানিং শুরু করলে?
তাও আবার জমজ? (অভ্র)
এবার ছেলের কথা শুনে শারমিন শেখ রেগে আগুন হয়ে গেল, সে দাঁতে দাঁত চেপে ধমকের সুরে ছেলেকে বলল :-
-বাদর ছেলে, আমাকে আজ বাসায় ফিরতে দে।
তোর হাড় মাংস যদি আলাদা করে রেখে না দিয়েছি,
তবে আমার নাম ও শারমিন না। (শারমিন শেখ)
-কি হলো আম্মু?
তুমি রেগে যাচ্ছ কেন?
তুমি তো বললে বাড়িতে নতুন ক্ষুদে সদস্য আসছে। (অভ্র)
শারমিন শেখ নিজেকে কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করে দাঁতে দাঁত চেপে বলল :-
-হ্যাঁ, আমি বলেছি যে ক্ষুদে সদস্য আসছে।
তারমানে এই না যে আমি আর তোর বাবা এই বয়সে এসে ফ্যামিলি প্ল্যানিং করছি। (শারমিন শেখ)
অভ্র মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল :-
-তাহলে? (অভ্র)
-ইরা মা হতে চলেছে। (শারমিন শেখ)
-আম্মু, আমাকে কি বলদ পাইছো?
গতবছর এই সেম ডাইলগ দিয়া আমার আর শুভ্র পকেট থেকে প্রায় 2 লক্ষ টাকা খসাই ছিলা।
পুরা এলাকায় ১৭ মন মিষ্টি বিলানোর পরে জানতে পারলাম পুরাই মিসটেক।
আমি কি পা*গল হইছি যে এবার আবার তোমার কথা শুনে ধেই ধেই করে নাচবো?
আমি তোমাদের কথা বিশ্বাস করি না।
আগে ভাইয়া এই বিষয়টা কনফার্ম করুক।
আগে শিওর হইযে সত্যি আমি চাচ্চু হব,
তারপর দরকার হলে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে এলাকায় ৩০ মন মিষ্টি বিলাবো। (অভ্র)
ছেলের মুখে এমন কথা শুনে শারমিন শেখ আর কথা না বাড়িয়ে কলটা কেটে দিল।
তারপর শারমিন শেখ এবং ইরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়, হঠাৎই শারমিন শেখ একটি শপিং মলের সামনে এসে ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বললেন।
এবং ইরাকের সাথে করে শপিং মলের ভিতরে নিয়ে গেলেন।
ইরা শারমিন শেখ কে জিজ্ঞেস করল:-
-মামি, আমরা শপিং মলে আসলাম কেন? (ইরা)
-তোর জন্য কিছু জিনিস কিনা প্রয়োজন।
(শারমিন শেখ)
-কি জিনিস?
আমার তো কিছু প্রয়োজন নেই। (ইরা)
-গর্ভকালীন সময়ে মেয়েদের যা যা প্রয়োজন হয়,
সেসব আমি নিজের হাতে কিনে নিয়ে যাব।
(শারমিন শেখ)
ইরার প্রেগনেন্সির কথা জানার সাথে-সাথে শারমিন শেখের এমন পা*গলা ও দেখে এরা মুচকি হাসলো।
ইরা এখন ভাবছে অগ্নিকে কিভাবে প্রে*গনেন্সির কথাটা জানাবে।
আর অন্যদিকে শারমিন শেখ মাদার হরলিক্স থেকে শুরু করে গর্ভকালীন সময়ে মেয়েদের যা যা প্রয়োজন হয় তার সবকিছুই কেনা শুরু করে দিয়েছে।
এমন সময় হঠাৎ ইরা দেখল শপিংমলের Digital Display-তে একটি সংবাদ চলছে, যেখানে অগ্নি*র ছবি দেখিয়ে বলা হচ্ছে যে :-
-পার্টি অফিস থেকে বেরোনোর সময় এমপি সাফওয়ান শেখ অগ্নির ওপরে প্রাণহানি আক্রমণ করা হয়েছে। বুকে দুইটি গু*লি লাগার ফলে গুরুতর আ*হত অবস্থায় তাকে সিটি হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওনার অবস্থা আ*শঙ্কা*জনক।
সংবাদটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ইরার হাত-পা অবশ হয়ে গেল, তখনই ধুপ করে ইরা ফ্লোরে ঢলে পড়ল।
তারপর কি হয়েছে ইরার তা জানা নেই।
চলবে....
